সমিতির ইতিহাস

আমাদের গর্ব আমরা নোয়াখালীর সন্তান । সৃষ্টির শুরু থেকে মানুষ ভাগ্যের সন্ধানে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাড়ি জমিয়েছে আমরাও তার ব্যাতিক্রম নই । তার ধারা বাহিকতায় আমাদের একটা অংশ চলে যায় অবিভক্ত ভারত বর্ষের কলকাতায় ।একে অপরের সাহায্য সহযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আজ থেকে একশত বৎসর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘নোয়াখালী জেলা সমিতি’। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর এ সমিতি ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়ে কর্মকাণ্ড শুরু করে। ১৯৮৫ সালে তৎকালীন সরকারের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ফলে নোয়াখালী সমিতি নতুন করে গঠন করা হয়।

সেই থেকে শুরু করে নোয়াখালী জেলা সমিতি আজ পর্যন্ত এমন কোন উল্লেখযোগ্য কিছু করতে না পারলেও চেষ্টার ত্রুটি করে নাই।কি নেই আমাদের? রাষ্ট্রের সম্মানিত আসনে অধিষ্ঠিত রাজনীতিবিদ,বুদ্ধিজীবী,শিক্ষক,সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, সমাজ সেবক সর্বত্রই অবস্থান করছেন নোয়াখালীবাসী।রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সর্বাত্মক অবদান রাখছেন আমাদের নোয়াখালীর শিল্পপতি, ব্যবসায়ীক প্রথিত যশা গুণীজন ও সুধিজনেরা।

নোয়াখালী জেলা সমিতি সবচেয়ে আদি সমিতি হিসেবে এটাকে আমরা ঢেলে সাজাতে চাই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে। এ সমিতির কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়িয়ে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে চাই যার সুফল ভোগ করবে ঢাকাস্থ সকল নোয়াখালীবাসী এবং আমাদের স্বজন সকল নোয়াখালীর স্থায়ী বাসিন্দারা।এর জন্য প্রয়োজন আপনাদের সকল ধরনের সহযোগিতা, আন্তরিকতা ও ভালবাসা। আজকের ঢাকাস্থ নোয়াখালী সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠান ২০০৫ এ নতুন করে উদ্বেগ উদ্দিপনা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই আমরা।আসুন আমরা ঢাকায় নোয়াখালীবাসী এক জায়গায় বসে এক হয়ে সবাই একমত পোষণ করে জেলাবাসীর উন্নয়নে আমাদের ঐতিহ্যকে ধরে রেখে কাজ করার শপথ নেই।

জেলাবাসীর কল্যাণে ভবিষ্যৎ কর্মসূচীঃ
১. রাজধানী ঢাকায় নোয়াখালী জেলা সমিতির স্থায়ী একটা অফিস স্থাপন।
২. রাজধানী ঢাকায় বহুতল বিশিষ্ট একটি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করে নোয়াখালীর সকল স্তরের শিল্পপতি,ব্যবসায়ী, আইনজীবীর অফিস, ডাক্তার চেম্বার,শপিং কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি সেন্টারের সুযোগ প্রদান করা।
৩. ছাত্র-ছাত্রীদের যেন স্বল্প খরচে অবস্থান করে লেখাপড়া করতে পারে সেজন্য ঢাকায় একটি আবাসিক হোস্টেল স্থাপন করা।
৪. জেলার বিভিন্ন তথ্য সম্বিলিত ১ টি গ্রন্থ প্রণয়ন করা।
৫. একটি লাইব্রেরী ও গবেষণাগার স্থাপন করা।
৬. একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করা।
৭. যুবকদের কর্মসংস্থান ও দারিদ্র বিমোচনে বিভিন্ন প্রকল্প চালু করা।
৮. দুস্থ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালু করা।
৯. চাকুরী ক্ষেত্রে কোটা প্রথা বাতিল পূর্বক মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের জন্য সরকারের নিকট দাবী জানানো।
১০. নোয়াখালীতে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য দাবী জানানো।
১১. নোয়াখালীতে যুগোপযোগী সেচ পদ্ধতি চালু করে ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরিকরন।
১২. মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র স্থাপন ও মৎস্য জোন ঘোষণা করার দাবী জানানো।
১৩. সমুদ্র বন্দর স্থাপন করার দাবী জানানো।
১৪. নোয়াখালী জেলা শহরে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ স্থাপনে সরকারের নিকট দাবী জানানো।